ইউরিক অ্যাসিড কি?
ইউরিক অ্যাসিড হলো কার্বন, হাইড্রোজেন নাইট্রোজেনের হেয়ারোসাইক্লিক যৌগ।
এটি মানবদেহের রক্তের একটি স্বাভাবিক বর্জ্য পদার্থ। অতিরিক্ত পরিমাণ প্রোটিন বা আমিষ
খেলে অথবা অ্যালকোহল জাতীয় খাবার বেশি খেলে শরীরে পিউরিন নামক নন এসেনশিয়াল এমাইনো
এসিড তৈরি হয়। শরীরে এই পিউরিন নামক রাসায়নিক বা প্রোটিন ভেঙ্গে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি
হয়। এই অ্যাসিড রক্তে দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।
যা কিডনির মাধ্যমে পরিশোধিত হয়ে প্রসাবের মাধ্যমে আমাদের শরীর থেকে বের হয়।
ইউরিক অ্যাসিড কেন হয়?
পিউরিনযুক্ত বা পিউরিনের মাত্রা বাড়াতে পারে এমন খাবার ও পানীয় যেমন- লাল
মাংস, কিছু সামুদ্রিক মাছ এবং অ্যালকোহল। এছাড়া ফ্রুক্টোজ সমৃদ্ধ খাবার যেমন- প্রক্রিয়াজাত
খাবার এবং কিছু কালারযুক্ত কোমল পানীয় আমাদের শরীরে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হতে সাহায্য
করে। ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়াকে মেটাবলিক সিনড্রোমের অংশ বলা হয়। উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ
মাত্রায় কোলেষ্টেরল ট্রাইগ্লিসারাইড ও ডায়বেটিস থাকলে ইউরিক অ্যাসিড বাড়ার আশঙ্কা অনেক
বেশি থাকে।
ইউরিক অ্যাসিড বাড়ার কারন?
খাদ্য ও পরিবেশগত কারন ছাড়াও বিভিন্ন কারনে ইউরিক অ্যাসিড বাড়তে পারে। অতিরিক্ত
পরিমাণ লাল মাংস বা আমিষ জাতীয় খাবার খাওয়া , সামুদ্রিক মাছ কিংবা অ্যালকোহল খেলে শরীরে
ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বহুগুণে বাড়তে পারে। কিছু কিছু সময় বংশীয় কারনেও এটা বাড়তে
পারে- যেমন ইউরিক অ্যাসিডের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে। কিডনি মানব দেহের একটি অতি গুরুত্বপুর্ন
ও সংবেদনশীল অঙ্গ। কিডনির কার্যকারিতা কমে আসলে বা ব্যহত হলে আমাদের শরীর থেকে ইউরিক
অ্যাসিড নিঃসরণ করার ক্ষমতা কমে আসে। ফলে ইউরিক অ্যাসিড শরীরে জমা হতে থাকে এবং এর
মাত্রা বহু গুনে বাড়িয়ে দেয়। ক্যান্সার চিকিৎসায় কেমোথেরাপি দেওয়ার প্রয়োজন পরে। কেমোথেরাপি
আমাদের শরীরের ক্যান্সার কোষ ও সুস্থ্য কোষ উভয়কেই মারে ফেলতে পারে ফলে পিউরিন উন্মুক্ত
হয়ে যায়। সুতরাং ক্যান্সারে ব্যবহৃত কেমোথেরাপির কারনে ইউরিক অ্যাসিড বাড়ে।